ঘাউড়া বউ

 বিয়ের দু'বছরের মাথায় মফিজ মিয়ার মনে হলো সায়লার মতো মেয়েকে বিয়ে করা তার উচিৎ হয়নি। সায়লার মুখ লাগামহীন। সব কথাতে উঁচু স্বরে পাল্টা জবাব দেয়। দু'জনের মতের মিল নেই বললে চলে। মফিজ মিয়া যেটা নিষেধ করে সায়লা সেটাই বেশি করে।

অথচ সারাজীবন মফিজ মিয়া চেয়েছিল সহজ সরল একটা মেয়ে বিয়ে করতে যার মধ্যে স্বামী ভক্তি থাকবে। সহজে স্বামীর সব কথা মেনে চলবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। সাধারণ তো মানুষ যেটা পছন্দ করেনা সেটাই বোধহয় তার কপালে জুটে বেশী। কী আর করা, রব না বানাদে জুড়ি! বউকে হেদায়েত দেয়ার জন্য মাঝেমাঝে রবের কাছেও প্রার্থনা করে মফিজ মিয়া। যদি শুধরায় ! 

মফিজ মিয়া কাপড়ের ব্যবসায়ী। রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে নয়টা, দশটা বেজে যায়। 

আজ প্রায় এগারোটা বেজে গেল।

দরজা খুলে সায়লা বলল, আজ আর বাসায় ফেরার কি দরকার ছিল?

মফিজ মিয়া নিরুত্তর থাকল।  কাপড় ছাড়তে ছাড়তে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বলল, নাও এটা তোমার-

কি এটা, ওমা এত সুন্দর শাড়ি ! সূর্য আজ কোনদিকে উঠেছে বলোত ? না চাইতেই বৃষ্টি !

মফিজ মিয়া প্রতিউত্তর না করে ওয়াশরুমে ঢুকে।

শাড়ির ভাজ খুলতে খুলতে সায়লা ভিতরে একটা র‍্যাপিং করা ছোট একটা প্যাকেট দেখে। প্রচণ্ড  আগ্রহ নিয়ে সেটা খুলে। দেখে ভিতরে একটা বই। নাম 'স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব কর্তব্য'।

..

তিনদিন পর শুক্রবার সকাল। সাধারণ তো ছুটির দিনে মফিজ মিয়ার দেরীতে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস। ঘুম ভাঙ্গতেই দেখে মাথার কাছে একটা প্যাকেট। প্যাকেট খুলতেই দেখে ভিতরে একটা আমানত শাহ লুঙ্গি। সাথে র‍্যাপিং করা একটা বই। বইয়ের নাম 'স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব কর্তব্য'।

.😂😂😂😂😂


Comments

Popular posts from this blog

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

রুপান্তর

কোলবালিশ