প্রতিশোধ
মাঝরাতে নিরার ম্যাসেজ আসলো, 'তোর বাসার সামনে দাঁড়ায় আছি। নামবি একটু?'
আমি লিখলাম, 'বাড়ি যা নিরা। কোন পরনারীর জন্য আমি নামবো না নিচে।'
নিরার রিপ্লাই এলো, 'পরনারী হবো কেন? প্রেম করার সময় তো বউ বলে ডাকতি।'
'সেটা যখন প্রেম ছিলো, তখন। এখন তো প্রেম নাই। তুই চলে যা। আমার বউ আছে, বাচ্চা আছে। তুই আসলে সংসার ভাঙবে আমার।'
'তোর সংসার ভাঙতে আসি নাই। প্লিজ, একবার নাম।'
ম্যাসেঞ্জারের টুংটাং শব্দে আমার বউ টুম্পা জেগে উঠে, 'কারে ম্যাসেজ করো রাত্রে বেলা?'
আমি ভয় পেয়ে বলি, 'কই, কাউরে না তো।'
টুম্পা হঠাৎ করে আমার মোবাইলটা কেড়ে নেয়। এরপর চোখ বুলায়ে বলে, 'আসলেই তো। কেউ তো ম্যাসেজ দেয় নাই। কিসের শব্দ হচ্ছিলো?'
'কিছুর না। একটা ভিডিও দেখছিলাম। ঐটার শব্দ।'
'ধুর। প্রতিরাতে একই জিনিস। এইসব ঢং রাইখা ঘুমাও তো। সকালে অফিস আছে।'
টুম্পা ঘুমায়। নিরার ম্যাসেজ আসে। আমি দেখেও দেখি না। নিরা আর যাই করুক, ঘরে ঢুকতে পারবে না। দোয়া পড়ে বন্ধক রাখা ঘর।
আজ থেকে দশবছর আগে, নিরার প্রেগন্যান্ট হবার ঘটনা চাপা দিতে ওরে মেরে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিলাম। এরপর থেকে এই দশ বছর ধরে প্রতিরাতে, নিরার নাম্বার থেকে ম্যাসেজ আসে আমার মোবাইলে।ওর মোবাইলটা ওর লাশের সাথেই পোঁতা হয়েছিলো। নিরা প্রতিরাতে আমারে দেখতে চায়, বাসার বাইরে আসতে বলে। আর আমি সন্ধ্যার পর নামি না বাড়ির বাইরে। প্রচন্ড ভয়ে কুঁকড়ে থাকি বাসার ভিতর, প্রচন্ড আতঙ্কে।
Comments
Post a Comment