Posts

Showing posts from January, 2023

নিহানের মা

 আজকেও নিহানের মা এসেছেন। এই নামিদামী স্কুলের বড়োলোক সব গার্জিয়ানদের ভীড়ে নিহানের মাকে আমার একটু অন্যরকম লাগে।   চেহারাটা বেশ শান্ত শান্ত। যতোবার দেখেছি শাড়ি পরাই দেখেছি। সুতি না হয় বেশিরভাগ সময়ই সুন্দর সুন্দর তাঁতের শাড়ি। আজকাল কেউ এতো নিয়মকরে শাড়ি পরে বাচ্চার স্কুলে আসে না। আমি নিজেও না। শাড়ির সাথে বিশাল লম্বা চুলের বেনি। গলায় একটা চেইন আর হাতে আংটি। এই তার সাজসজ্জা।  মেকাপ তো দূরের কথা ভুল করে ঐ গোলাপী ঠোটে কোনোদিন মনে হয় লিপস্টিকও দেন নাই।   টিফিন পিরিয়ডে স্কুলের ওয়েটিং রুমে নিহানের জন্য অপেক্ষা করেন। নিহানের মায়ের এমন ঝটিকা সফর আমাকে বেশ কৌতুহলী করে তোলে। দুই হাত ভর্তি ব্যাগ থাকে। কী কী থাকে সেই ব্যাগের ভেতর আমার মাঝে মাঝে দেখার খুব ইচ্ছা হয়! তবে বুঝি সব খাবারের বক্স কিংবা প্যাকেট।  ছুটির সময় ওয়েটিং রুমে বেশ ভীড় থাকে কিন্ত  টিফিন পিরিয়ডে উনি ছাড়া আর কেউ আসেনই না বলতে গেলে! পুরো রুমে শুধু মা আর ছেলে! . যেহেতু পাশেই আমাদের টিচার্স কমনরুম তাই দেখা হয়ে যায়। আর যখনই দেখা হয় ভদ্রমহিলা সালাম দিয়ে মুচকি হাসি দেন। আমিও হাসি। আর আমি দেখি নিহান আপনমনে খ...

কোলবালিশ

 গতকাল ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করেছিলাম আর ছবির ক্যাপশন ছিলো,”এই রোমান্টিক আবহাওয়ায় যার বউ নাই তার কোলবালিশ আছে অথচ আমার বউ কোলবালিশ কোনটাই নাই ” আজ সকালে দেখি আমার গার্লফ্রেন্ড শ্রাবণী একটা  কোলবালিশ নিয়ে আমার অফিসে এসে হাজির। আমায় দেখে মিষ্টি হেসে বললো, “তোমার তো কেউ নেই তাই তোমার জন্য একটা কোলবালিশ নিয়ে আসলাম” আমি কিছুটা ভয়ে ভয়ে বললাম, -পোস্টটা তো আমি মজা করে করেছি। তুমি সিরিয়াসলি নিচ্ছো কেন? শ্রাবণী দাঁতে দাঁত চেপে নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে বললো, - “তোমায় কে বলেছে রোমান্টিক আবহাওয়ায় একা একা থাকতে? এতোদিন বিয়ের কথা বললে বলতে, “আগে পড়াশোনাটা শেষ করি” পড়াশোনা শেষ হবার পর যখন বিয়ের কথা বললাম তখন বলেছো, “আগে একটা চাকরির ব্যবস্থা করি” এখন চাকরি পাবার পর যখন বিয়ের কথা বলি তুমি শুধু এই সমস্যা ওই সমস্যা দেখাও। সত্যি করে বলো তো তুমি কি চাও?” আমি বিড়বিড় করে বললাম, -শান্তি চাই। - “ঠিক বুঝলাম না? কি বলেছো তুমি?” আমি আমতা আমতা করে বললাম, - “আসলে সামনের মাসে আমার মামাতো বোনের বাচ্চা ডেলিভারি। ওর বাচ্চাটা হয়ে গেলেই আমরা বিয়ে করে নিবো?” শ্রাবণী অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, - “মামাতো বোনে...

রুপান্তর

 আমার ষাট বছর বয়সী বাবা হঠাৎ এক মাঝ রাতে স্ট্রোক করলো। এতে তার শরীরের ডান দিক অবশ হয়ে গেলো। ডান হাত, ডান পা কোনোটাই নাড়াতে পারে না। পুরো শরীর দুর্বল হয়ে গেলো। শোয়া থেকে নিজে উঠে বসতে পারে না, বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে না। তার ঠোঁট, জিহ্বা বেশ অসাড় হয়ে গেলো। তাই কথা হয়ে গেলো অনেকখানি অস্পষ্ট। অবশ্য মনোযোগ দিয়ে শুনলে বোঝা যায়।   বাবা ব্যবসায়ী ছিলো বলে সারাদিন বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকতো। সারাক্ষণ বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকা বাবা আচমকা কাজহীন হয়ে বাড়িতে বন্দী হয়ে গেলো। গোটা দিন বিছানায় শুয়ে থাকে। খাওয়া ও ওষুধ সেবনের সময় হাত দিয়ে ধরে তাকে বসানো হয়। তারপর আবার তাকে শুইয়ে দেয়া হয়।    ডাক্তার ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যায়াম দিলো বাবাকে করানোর জন্য। আর বললো, তার সাথে যেনো কথা বলি, সময় কাটাই এবং তাকে ধরে ধরে হাঁটতে শেখাই।   মা সাধ্যমত বাবার সেবা করছে। কিন্তু মা'র বয়স হলো এবং সেও কিছুটা অসুস্থ। তাই মা চাইলেও বাবার জন্য বেশি কিছু করতে পারে না। একমাত্র সন্তান হিসেবে বাবাকে দেখাশোনার দায়িত্বটা ফলে আমার ওপরই সরাসরি পড়লো।     বাবার মানসিক জোর খুব ভালো। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্...

অনুরাধা

 অনুরাধা এসেছিল আমার বাড়িতে। বাহিরে তখন দমকা হওয়ায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিল। অনুরাধা প্রথমে আমার হাত ধরে বলেছিল প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দেবেন না। কিন্তু আমার পক্ষে অনুরাধা-কে গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। অনুরাধা অবুঝের মতো অনুনয়- বিনয় করেই চলল। শেষমেষ আমার পা ধরে বলল, আপনি যদি আমাকে গ্রহণ না করেন তাহলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোন গতি থাকবে না। আপনি ছাড়া অন্য কোন পুরুষকে আমি কল্পনাও করতে পারিনা। আমি ওকে বুঝালাম দেখো অনুরাধা, তুমি আমার ছোট বোনের মতন। তুমি আমাকে ভালোবাসো ঠিক আছে কিন্তু সে ভালোবাসা ছাত্র-শিক্ষকের ভালোবাসা হিসেবেই থাক। আর আমি তো কোনদিন তোমাকে চাত্রী ছাড়া অন্য কোনকিছু হিসেবে ভালোবাসিনি। . -আমার সংসার আছে। স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। ওদেরকে আমি কি জবাব দেব। ওদেরকে ফেলে তোমাকে নিয়ে আমি থাকতে পারবো না। কারণ এই সমাজ, এই সংসার, ধর্ম এই সম্পর্ককে কখনোই মেনে নেবে না। তুমি হিন্দু আমি মুসলিম আর তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা আমি তোমার শিক্ষক। আমি শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক হতে চাই না ।আমার একটি ভুলের জন্য অন্য শিক্ষকদের মুখে কালিমা লেপন হোক তা আমি হতে দিতে পারিনা। তোমার সামনে সারা জীবন পড়ে রয়েছে। তু...

দ্বিতীয় ছেলেটা

 মায়ের বয়সী একজন ভদ্র মহিলা সবসময়ই আমার কাছে সেবা নিতে আসতেন। তাঁর একাউন্টে বিদেশ থেকে টাকা জমা হতো। ব্যাংকে এসেই একাউন্টের ব্যালেন্স  চেক করাতেন। একাউন্টে টাকা জমা হলে তুলে নিতেন।  তাঁর কথা বার্তা আচার-আচরণে উচ্চ শিক্ষিত বলে মনে হয়েছে। খুব স্মার্টলি কথা বলতেন। কিন্তু কখনো নিজে চেক লিখতেন না। সবসময় আমাকে দিয়ে লিখাতেন। সে শুধু স্বাক্ষর করত। তাঁর চেকের স্বাক্ষর দেখে অবাক হতাম খুব সুন্দর করে ইংলিশে পেচিয়ে স্বাক্ষর করতেন।  শুরুতে ব্যালেন্স দেখে টাকার অংক জানানো ও চেক লিখে দেয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলাম। বাকীটা সে নিজেই ক্যাশ থেকে টাকা তুলে নিত নিজ দায়িত্বে। আমাকে বাবা বাবা বলে সম্বোধন করতো। আমি তাকে ম্যাম বা ম্যাডাম বললে ক্ষেপে যেতো এবং বলত এসব বিদেশি ধার করা শব্দ শুনতে আমার ভালো লাগে না কেমন যেন পর পর মনে হয়। একদিন চেক লিখে দেয়ার পর আমাকে বলল,বাবা আমি লাইনে দাঁড়িয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারি না যদি টাকাটা তুলে দেয়ার ব্যবস্থা করতা।সেদিন থেকে আমি নিজে অথবা কোনো পিওনের মাধ্যমে তাকে বসিয়েই সেই ব্যবস্থা করে দিতাম। এখন আমাকে সে আপনি থেকে তুমি বলেই সম্বোধন করে আমারও খুব ভালো লাগে। তাঁর...

প্রতিশোধ

 মাঝরাতে নিরার ম্যাসেজ আসলো, 'তোর বাসার সামনে দাঁড়ায় আছি‌। নামবি একটু?' আমি লিখলাম, 'বাড়ি যা নিরা। কোন পরনারীর জন্য আমি নামবো না নিচে।' নিরার রিপ্লাই এলো, 'পরনারী হবো কেন? প্রেম করার সময় তো বউ বলে ডাকতি।' 'সেটা যখন প্রেম ছিলো, তখন। এখন তো প্রেম নাই। তুই চলে যা। আমার বউ আছে, বাচ্চা আছে‌। তুই আসলে সংসার ভাঙবে আমার।' 'তোর সংসার ভাঙতে আসি নাই। প্লিজ, একবার নাম।' ম্যাসেঞ্জারের টুংটাং শব্দে আমার বউ টুম্পা জেগে উঠে, 'কারে ম্যাসেজ করো রাত্রে বেলা?' আমি ভয় পেয়ে বলি, 'কই, কাউরে না তো।' টুম্পা হঠাৎ করে আমার মোবাইলটা কেড়ে নেয়। এরপর চোখ বুলায়ে বলে, 'আসলেই তো। কেউ তো ম্যাসেজ দেয় নাই। কিসের শব্দ হচ্ছিলো?' 'কিছুর না। একটা ভিডিও দেখছিলাম। ঐটার শব্দ।' 'ধুর। প্রতিরাতে একই জিনিস। এইসব ঢং রাইখা ঘুমাও তো। সকালে অফিস আছে।' টুম্পা ঘুমায়। নিরার ম্যাসেজ আসে। আমি দেখেও দেখি না। নিরা আর যাই করুক, ঘরে ঢুকতে পারবে না‌। দোয়া পড়ে বন্ধক রাখা ঘর। আজ থেকে দশবছর আগে, নিরার প্রেগন্যান্ট হবার ঘটনা চাপা দিতে ওরে মেরে মাটিতে পুঁতে দি...

সিগারেট

 গত চারটা বছর খুব দ্রুত কেটে গেছে। ইউনিভার্সিটির দিনগুলোতে অনেক হতাশ ছিল আবির, তবু সময় কিভাবে সেই হতাশার মধ্য দিয়ে গলে গেল সেটা আর মনে নেই তার। এই চার বছরে পরিস্থিতির মাঝে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আবিরের বাবা মারা গেলেন, ফলে পড়াশোনার খরচ বাড়লো। এদিক-ওদিক থেকে বন্ধুরা দু'তিনটা বাড়তি টিউশনি ধরিয়ে দিয়ে তখনকার মত তাকে উদ্ধার করেছিল। কী যে ব্যস্ততায় গেছে দিনগুলো!  এরমধ্যে সে সিগারেট ধরলো, ইমম্যাচিউর যে ভাবটা তখনও ছিল সেটা ধূমপানের সাথে ম্যাজিকের মত কেটে গেল। গ্র‍্যাজুয়েশনের দেড় দুই বছর আগে বন্ধুরা অনেকে বড়লোক হতে শুরু করলো। কেউ বাবার ব্যবসা দেখে তো কেউ বাবার জমানো টাকা খরচ করে। আবির নিজেকে কখনো সাংঘর্ষিক করে তুলতে পারেনি। কিন্তু বন্ধুদের এই বিলাসীতায় গা ডুবিয়ে দিতে দেখে তার কেমন একটা ঈর্ষা হতে শুরু করলো।  তখন সে ঢাকার খিলগাঁও থাকে। উত্তর বাসাবোর রেলগেটে তার মেস। ঈর্ষান্বিত সেই সময়টাতে তার অবসর কেটেছে কবিতার মাঝে ডুব দিয়ে। মেসের ম্যানেজারের সাথে তার খাতির ছিল। তিনি একদিন পান্ডুলিপি দেখে বলেন, এসব লিখলেই শুধু হবে না। সম্পাদকদের সাথে যোগাযোগও রাখতে হবে।  আবির হেসে বলে, আমি তো শু...

ঘাউড়া বউ

 বিয়ের দু'বছরের মাথায় মফিজ মিয়ার মনে হলো সায়লার মতো মেয়েকে বিয়ে করা তার উচিৎ হয়নি। সায়লার মুখ লাগামহীন। সব কথাতে উঁচু স্বরে পাল্টা জবাব দেয়। দু'জনের মতের মিল নেই বললে চলে। মফিজ মিয়া যেটা নিষেধ করে সায়লা সেটাই বেশি করে। অথচ সারাজীবন মফিজ মিয়া চেয়েছিল সহজ সরল একটা মেয়ে বিয়ে করতে যার মধ্যে স্বামী ভক্তি থাকবে। সহজে স্বামীর সব কথা মেনে চলবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। সাধারণ তো মানুষ যেটা পছন্দ করেনা সেটাই বোধহয় তার কপালে জুটে বেশী। কী আর করা, রব না বানাদে জুড়ি! বউকে হেদায়েত দেয়ার জন্য মাঝেমাঝে রবের কাছেও প্রার্থনা করে মফিজ মিয়া। যদি শুধরায় !  মফিজ মিয়া কাপড়ের ব্যবসায়ী। রাতে বাসায় ফিরতে ফিরতে নয়টা, দশটা বেজে যায়।  আজ প্রায় এগারোটা বেজে গেল। দরজা খুলে সায়লা বলল, আজ আর বাসায় ফেরার কি দরকার ছিল? মফিজ মিয়া নিরুত্তর থাকল।  কাপড় ছাড়তে ছাড়তে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বলল, নাও এটা তোমার- কি এটা, ওমা এত সুন্দর শাড়ি ! সূর্য আজ কোনদিকে উঠেছে বলোত ? না চাইতেই বৃষ্টি ! মফিজ মিয়া প্রতিউত্তর না করে ওয়াশরুমে ঢুকে। শাড়ির ভাজ খুলতে খুলতে সায়লা ভিতরে একটা র‍্যাপিং করা ছোট একটা প্যাকেট দেখে। ...

গোয়েন্দা

 "ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?" সামনে থেকে কর্কশ গলায় প্রশ্নটা উড়ে আসলো। চমকে গিয়ে একটু পেছনে সরে আসল রানা।  লোকাল ট্রেনের ভেতরে ভীড়ের চাপে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকাই ঝামেলা হয়ে গেছে। আর ইচ্ছে করে ধাক্কা দেয়ার মত এতটাও অভব্য না রানা। এর থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার আছে ওর! এক হাতে উপরের হ্যান্ডেলটা শক্ত করে ধরে কিছুটা ঝুঁকে হাতের মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকাল রানা। কানে ইয়ারফোন গুঁজে গান প্লে করলো একটা। ট্রেনের দুলুনিতে খারাপ লাগছে না শুধু ওই মানুষের ভিড়টাই যা একটু বেশি। অবশ্য ভিড় যত বেশি ততই ভালো ওর জন্য। কাজটা ঠিকঠাক ভাবে করার জন্য আরো ভিড় থাকলে আরো বেশি ভালো হতো, তবে এটুকুতেই চলবে। কাঁচা কাজ করে না রানা। ওর বা পাশে ওর মতোই ইয়ারফোন কানে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছেলে। বয়স ওর মতোই হবে। তবে রানার সম্পূর্ণ মনোযোগ ছেলেটার ওপাশে, লাল শার্ট পরা লোকটার দিকে।  লোকটাকে দেখতে মনে হয় একদম নিরীহ, সহজ সরল তবে তার এই সরল চেহারা দিয়ে রানার কোন লাভ নেই। কেননা রানার আজকের টার্গেট এই লোকটাই।  তিন দিন ধরে লোকটার উপর নজর রাখছে সে, কাজটা করতে হবে আজকেই, এই ট্রেনেই। সাধারণত কোন কাজের জন্য রানা তিন দিনের ...

সরি রুপা

 ১. রুপা একটি  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার স্বামী সাজ্জাদও তাই। তবে সে অন্য একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায়।   ছেলের মা হওয়ার তৃতীয় দিনের মাথায় সাজ্জাদ রুপাকে  বললো,"এবার চাকরিটা ছেড়ে দাও🙃🙃।"   রুপা অবাক হয়ে বললো,"চাকরি ছাড়ার কথা আসছে কেনো?😒😒"   সাজ্জাদ বিরক্ত হয়ে বললো,"চাকরি না ছাড়লে ছেলের দেখাশোনা করবে কীভাবে?"   "সন্তান দেখাশোনা করার দায়িত্ব কি মা'র একার? 💔💔বাবার নয়?"   "সব সময় তর্ক ভালো লাগে না। না বুঝে কথা বলবে না।"   "কোন কথাটা না বুঝে বললাম?"   "তুমি তাহলে চাকরি ছাড়বে না?😡😡"   রুপা দৃঢ় কণ্ঠে বললো,"না।😡😡"   "তাহলে ছেলের কী হবে?"   "সে ভাবনা কি শুধু আমার? তোমার নয়? সন্তান দেখাশোনার জন্য আমাকেই কেনো চাকরি ছাড়তে হবে? তুমিও তো চাকরি ছাড়তে পারো?"   "ননসেন্স!😐😐"   "ননসেন্স আমি নই, তুমি ননসেন্সের মতো কথা বলছো। সন্তান যদি দুজনের হয়, তাহলে সন্তান দেখাশোনার কাজ উভয়ের নয় কেনো?🤔🤔"   "তোমার সাথে কথা বলা অর্থহীন🤫🤫। আমরা দুজন কাজে চলে গেলে বাসায় তো ...